দরিদ্র জনগোষ্ঠীর বিরাট অংশ এখনও আর্থিক অন্তর্ভুক্তির আওতায় আসেনি

দরিদ্র ও প্রত্যন্ত এলাকার জনসাধারণের বিরাট অংশ আর্থিক অন্তর্ভুক্তির আওতায় আসেনি। তাদের জন্য নিরাপদ, মানসম্পন্ন ও যথাযথ আর্থিক সেবা দিতে একটি সমন্বিত আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বাংলাদেশের চলমান প্রচেষ্টাকে আরো জোরদার করতে হবে। এই সমন্বিত ব্যবস্থাটি এমন হওয়া দরকার যাতে আর্থিকভাবে সক্ষম গ্রাহকেরা কম খরচে, স্বচ্ছন্দে ও সম্মানের সঙ্গে গুণগত মানসম্পন্ন আর্থিক সেবা পেতে পারেন।

আজ বুধবার (৩১শে অক্টোবর, ২০১৮) বিকেলে রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা এই অভিমত ব্যক্ত করেন। আর্থিক অন্তর্ভুক্তি সপ্তাহ উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ব্র্যাক। ওয়াশিংটনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ফাইনান্সিয়াল ইনক্লুশন অ্যাট অ্যাক্সিয়ন (সিএফআই)-এর উদ্যোগে ২০১৫ সাল থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই সপ্তাহ পালিত হয়ে আসছে। ২৯ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত এ বছরের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি সপ্তাহের বিষয় হচ্ছে ‘গেটিং ইনক্লুশন রাইট’ বা ‘অন্তর্ভুক্তির অধিকারপ্রাাপ্তি’।

আলোচনায় অংশ নেন ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্সের পরিচালক শামেরান আবেদ, বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম অফিসার মারিয়া এ মে, জাতিসংঘ পুঁজি উন্নয়ন তহবিল (ইউএনসিডিএফ)-এর প্রোজেক্ট কোঅর্ডিনেটর আশরাফুল ইসলাম এবং যুক্তরাজ্যভিত্তিক নাথান অ্যাসোসিয়েটসের প্রকল্প বিজনেস ফাইন্যান্স ফর দ্য পুওর ইন বাংলাদেশ-এর টিম লিডার ফয়সল হোসাইন। সঞ্চালনায় ছিলেন ব্র্যাকের সোশ্যাল ইনোভেশন ল্যাবের প্রোগ্রাম ম্যানেজার রাকিব অভি।

ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্সের পরিচালক শামেরান আবেদ বলেন, ‘পূর্ণ আর্থিক অন্তর্ভুক্তির অর্থ হচ্ছেÑমানুষের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়নের ব্যবস্থা করা। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে সনাতনী ব্যাংকিং ব্যবস্থা এই ব্যাপারে তেমন আগ্রহী নয়।

বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম অফিসার মারিয়া এ মে বলেন, ‘পরিবারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে মেয়েদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা খুবই সীমিত। ফলে আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে ব্যাপক জেন্ডার বৈষম্য দেখা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি বদলাতে জোরালো উদ্যোগ নিতে হবে।’

বিজনেস ফাইন্যান্স ফর দ্য পুওর ইন বাংলাদেশ-এর টিম লিডার ফয়সল হোসাইন বলেন, ‘জাতীয় আর্থিক অন্তর্ভুক্তি কৌশলের খসড়া প্রায় তৈরি হয়ে আছে। এর মধ্যে আর্থিক সেবা প্রদানকারী এবং ডিজিটাল ইকোসিস্টেমের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।’

আলোচকেরা উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে এখনও ১৫ বছরের ঊর্ধ্বে জনসংখ্যার শতকরা ৫০ জনেরই কোনো ব্যাংক বা অন্য কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানে অ্যাকাউন্ট নেই। এই বয়সী নারীদের ৬৪ শতাংশেরই কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানে অ্যাকাউন্ট নেই। যথাযথ সমন্বিত আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আমাদের প্রথমেই খুঁজে বের করতে হবেÑকী কী কারণে বিপুল জনগোষ্ঠী প্রাতিষ্ঠানিক আর্থিক সেবায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারছে না।

আমাদের কর্মস্থল

                

ব্র্যাক কুইজ

কোনটি দারিদ্র্য দূরীকরনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি কার্যকরী?

বিকল্প যোগাযোগ পন্থা