ঢাকায় ইনোভেটিং জাস্টিস চ্যালেঞ্জ

প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে দরিদ্র ও হতদরিদ্রদের কাছে একটি দরকারি বার্তা পৌঁছানোর উপায় বের করেছেন ভারতের অনিকেত দোয়েগার। বার্তাটি হচ্ছে-তাদের ন্যায়বিচারপ্রাপ্তিতে সরকার কী কী সুবিধা দিচ্ছে। একই দেশের গৌতমী রাইকারের উদ্যোগটি হলো নতুন গড়ে ওঠা ব্যবসাগুলোকে (স্টার্টআপ বিজনেস) আইনগত সহায়তা দেওয়া। বাংলাদেশের লিপি রহমান উদ্যোগ নিয়েছেন প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভূমিবিষয়ক সমস্যা নিরসনে। আর মায়ানমারের চো চান মেয়ি আইডিয়া দিয়েছেন নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে প্রযুক্তি ব্যবহারের।

এসব উদ্ভাবনী ভাবনার কথা জানা গেল আজ শনিবার (৬ অক্টোবর) সকালে ‘ইনোভেটিং জাস্টিস চ্যালেঞ্জ’-এর এশিয়া অঞ্চলের চূড়ান্ত পর্বে। অসহায় মানুষের ন্যায়বিচার প্রাপ্তিতে সহজ ও কার্যকর সমাধান খোঁজার লক্ষ্যে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে চূড়ান্ত পর্বটি অনুষ্ঠিত হয় ব্র্যাক মানবাধিকার ও আইন সহায়তা কর্মসূচি এবং নেদারল্যান্ডভিত্তিক সংস্থা হিল-এর যৌথ উদ্যোগে।

চূড়ান্ত পর্বে চারজনের মধ্যে বিচারকদের সিদ্ধান্তে সেরা বলে বিবেচিত হন ভারতের অনিকেত দোয়েগার। বিজয়ী উদ্ভাবক পাবেন হিল-এর জাস্টিস এক্সিলারেটর এর সম্মান, এক বছরের জন্য ৪টি ভাগে ২০ হাজার ইউরো আর্থিক অনুদান। প্রতি ভাগের অনুদানের পর কাজের ফলাফল পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে পরের অনুদান। এর পাশাপাশি হিল তাকে দেবে উদ্যোক্তা হওয়ার প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা।

অনুষ্ঠানটির প্রধান অতিথি ও মূল আলোচক ছিলেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এবং পাওয়ার অ্যান্ড পারটিসিপেশন সেন্টার (পিপিআরসি)-এর প্রতিষ্ঠাতা ড: হোসেন জিল্লুর রহমান। আরও উপস্থিত ছিলেন হিল-এর বিজনেস ডেভেলপমেন্ট কনসালট্যান্ট মারটাইন কাইন্ড এবং ন্যাথালি ডাইকম্যান, ব্র্যাক মানবাধিকার ও আইন সহায়তা কর্মসূচির সহযোগী পরিচালক সাজেদা ফারিসা কবির।

বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী কানন অমল ধ্রু, আইনজীবী জুনায়েদ আহমেদ চৌধুরী এবং ব্র্যাক ডেইরি এন্ড ফুড প্রোজেক্ট এর পরিচালক মোঃ আনিসুর রহমান।

ড: হোসেন জিল্লুর বলেন, ‘অতিদরিদ্রদের মাঝে ন্যায়বিচারের সুফল পৌঁছাতে হলে উদ্ভাবনী পদক্ষেপ জরুরি। এই উদ্ভাবনী চিন্তায় কেউ বিজয়ী হওয়ার মানে এই নয় যে, বাকিরা ব্যর্থ হয়েছেন। সকলের উদ্ভাবনী আইডিয়াই মানুষের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ তাই সবাই নিজ নিজ কর্মোদ্যোগকে আরও এগিয়ে নিতে সচেষ্ট হবেন।’

আয়োজকরা জানান, বিশ্বে প্রতি বছর প্রায় এক বিলিয়ন মানুষ অন্যায়ের শিকার হয়, যার ৮২ শতাংশের কোন বিচার হয় না। প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষ ন্যায়বিচার প্রার্থনার জন্য নিজেদেরকে দুর্বল মনে করেন। এছাড়াও অন্যান্য বাধা অতিক্রম করতে বিশ্ব জুড়ে বিচার প্রক্রিয়ার উন্নয়ন প্রয়োজন। এর জন্য প্রয়োজন উদ্ভাবনী সমাধান যা সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী।

হিল সংস্থাটি গত ২০০৫ সাল থেকে ন্যায়বিচার প্রক্রিয়া উন্নয়নে উদ্ভাবনের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। এই লক্ষ্যে প্রতি বছর তারা বিশ্বব্যাপী ইনোভেটিং জাস্টিস চ্যালেঞ্জ-এর আয়োজন করে। এবছর বিভিন্ন দেশ থেকে ৪৩০টি উদ্ভাবনী আইডিয়া জমা পড়ে। এশিয়া অঞ্চলের ফাইনালের জন্য নির্বাচিত হন উপরোক্ত চারজন।

আমাদের কর্মস্থল

                

ব্র্যাক কুইজ

কোনটি দারিদ্র্য দূরীকরনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি কার্যকরী?

বিকল্প যোগাযোগ পন্থা