চ্যালেঞ্জের মুখে ওষুধ প্রতিরোধী যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ, ৮০ শতাংশই শনাক্তের বাইরে

দেশে যক্ষ্মা চিকিৎসার ক্ষেত্রে সরকারের সাফল্য আশাব্যঞ্জক হলেও ডায়াগনসিস সংক্রান্ত জটিলতার কারণে ওষুধ প্রতিরোধী যক্ষ্মা বা এমডিআর নিয়ন্ত্রণ এখনও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে। এখনও এ ধরনের রোগীদের আনুমানিক ৮০ শতাংশই শনাক্তের বাইরে থাকছেন। আর সকল ধরনের যক্ষ্মায় চিকিৎসার আওতাবহির্ভূত থাকছেন ৩৩ শতাংশ রোগী। তবে শনাক্তকরণের ক্ষেত্রে সমস্যা থাকলেও জীবাণুযুক্ত ফুসফুসের যক্ষ্মার চিকিৎসার ক্ষেত্রে সাফল্যের হার ৯৫ শতাংশ যা সন্তোষজনক।

আজ বৃহস্পতিবার (২২শে মার্চ, ২০১৮) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে আয়োজিত এক সাংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি ও ব্র্যাক যৌথভাবে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্র্যাকের যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির সিনিয়র সেক্টর স্পেশালিস্ট ডা. মো. আবুল খায়ের বাশার। কর্মসূচি সংক্রান্ত উপস্থাপনা তুলে ধরেন জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির মেডিকেল অফিসার ড. নাজিস আরেফিন সাকি। স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের বিশেষজ্ঞ ডা. আহমাদুল হাসান খান। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. সামিউল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মেডিকেল অফিসার মিয়া সাপোল, ইউএইসএইড-এর সংক্রামক রোগ সংক্রান্ত জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ড. চার্লস লারম্যান, ন্যাশনাল অ্যান্টি টিউবারকিউলোসিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নাটাব)-এর প্রেসিডেন্ট মোজাফফর হোসেন পল্টু, আইসিডিডিআর,বি-এর বিজ্ঞানী ডা. সায়রা বানু, ব্র্যাকের পরিচালক ড. মো. আকরামুল ইসলাম প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এমডিআর রোগী শনাক্তকরণের ক্ষেত্রে বড় সমস্যা হচ্ছে যে সংখ্যক জিনএক্সপার্ট মেশিন থাকার কথা, তা নেই। তাছাড়া সচেতনতার অভাব ও চিকিৎসাব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদী বলে অনেকের পক্ষে নিয়মিত ওষুধ খাওয়া সম্ভব হয় না। ফলে এর সফলতা তুলনামূলকভাবে কম।

এতে আরও বলা হয়, জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির (এনটিপি) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে এনটিপির মাধ্যমে দেশে ২ লাখ ৪৪ হাজার ২০১ জন যক্ষ্মা রোগী শনাক্ত করা হয়েছে ও চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ১৫ বছরের কম বয়সী শিশু যক্ষ্মারোগী শনাক্ত হয়েছে ১০ হাজার ১৮৯ জন। দেশে এখন এক্সটেনসিভলি ড্রাগ রেজিস্ট্যান্ট (ঢউজ) রোগীর সংখ্যা ১২ জন।

মূল প্রবন্ধে বলা হয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী দেশে প্রতি বছর প্রতি লাখে যক্ষ্মায় আক্রান্ত হচ্ছে ২২১ জন, মৃত্যু হচ্ছে ৪০ জনের। তাই যক্ষ্মা চিকিৎসায় সচেতনতার পাশাপাশি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন জরুরি।

অধ্যাপক ডা. সামিউল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ ১৯৯৩ সাল থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে যক্ষ্মা নির্ণয় ও নিরাময়ের ক্ষেত্রে যে সাফল্য অর্জন করেছে, তা জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচিরই সাফল্য। এই কর্মসূচির মাধ্যমে রোগনির্ণয়ের হার প্রতি এক লাখ জনসংখ্যায় ৭৭ জন এবং আরোগ্যের হার ৯৫ শতাংশ।

তিনি বলেন, এত সাফল্য সত্ত্বেও বিশ্বে যক্ষ্মার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ৩০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। এ ঝুঁকি মোকাবেলা ও যক্ষ্মামুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

মিয়া সাপোল যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বিতভাবে কাজ করার তাগিদ দেন।

ড. মো. আকরামুল ইসলাম যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বলেন, শহরে ও বয়ষ্ক জনগোষ্ঠীর মধ্যে যক্ষ্মার প্রাদুর্ভাব অনেক বেশী। তিনি শহরে যক্ষ্মা রোগী শনাক্তকরণের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্বআরোপ করেছেন।

তিনি আরও বলেন, বস্তি এলাকা, ভাসমান জনগোষ্ঠী, কলকারখানা, কারাগার এবং প্রাইভেট সেক্টরে যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি আারও সম্প্রসারণের কাজ চলছে।

তিনি বলেন, যক্ষ্মারোগীদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং এই রোগ নিয়ন্ত্রণে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে যেসব কার্যক্রম রয়েছে তা গণমাধ্যমে তুলে ধরে সংবাদকর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

সাংবাদ সম্মেলনে যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেগুলো হলো: শিশু যক্ষ্মা শনাক্তকরণে জটিলতা, নগরে যক্ষ্মা রোগ সনাক্তকরণের হার, বয়ষ্ক জনগোষ্ঠী, কর্মজীবী পুরুষ, আধুনিক ডায়াগনসিসের ক্ষেত্রে জিনএক্সপার্ট মেশিনের স্বল্পতা, পরীক্ষা-নিরীক্ষার ক্ষেত্রে জনবল সঙ্কট, বেসরকারি পর্যায়ে সম্পৃক্ততার অভাব, শনাক্তকরণকে বাধ্যতামূলক না করা প্রভৃতি।

উল্লেখ্য, এবারের বিশ্ব যক্ষ্মা দিবসের শ্লোগান নির্ধারণ করা হয়েছে, ‘নেতৃত্ব চাই যক্ষ্মা নির্মুলে, ইতিহাস গড়ি সবাই মিলে’।

আমাদের কর্মস্থল

                

ব্র্যাক কুইজ

কোনটি দারিদ্র্য দূরীকরনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি কার্যকরী?

বিকল্প যোগাযোগ পন্থা